Skip to main content

সাম্প্রতিক সমস্যা সমাধানে ধর্মীয় চেতনা

আমরা কতটুকু ধার্মিক?
প্রশ্নের উত্তর আসবে "এখন তো এমন মানুষ দেখিই না" "কি আর বলবো কোনো হুজুর কেই বিশ্বাস করা যায় না আর আমরা তো সাধারণ মানুষ" ইত্যাদি ইত্যাদি।এখন তো কেউই ধার্মিক পথে চলতে ভয় পায়,"ধর্ম কর্ম করবো তাহলে বাঁচবো কিভাবে?" তারা স্বীকার বা বিশ্বাস করতে চায় না বাঁচানোর মালিক আল্লাহ।

এই লেখাটা যারা পড়ছে আমি ধরে নিচ্ছি সবাই শিক্ষিত এবং মোটামুটি সচ্ছল।আমরা নিজেরাই বলি আমরা ধার্মিক না আর অন্য কাউকেও ধার্মিক বলে বিশ্বাস করি না।বাস্তবতা এটা না।আমরা এত শিক্ষিত হয়েও ধর্মীয় কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে পারি না,সেখানে সামান্য(যদিও অসামান্য) একজন রিকশাওয়ালা প্রতিনিয়তই তার ধার্মিক হওয়ার কাজ করে যাচ্ছে।

ঘটনার সূত্রপাত সম্বন্ধে বলি।
জে.এস.সি পরীক্ষার কয়েক মাস আগে সন্ধ্যাবেলা কোচিং থেকে তিনজন বন্ধু সহ বাসায় ফিরছিলাম।একটা তেমাথার মোড়ে আমাদের বাসার রাস্তা ভিন্ন ভিন্ন দিকে চলে গেছে।ওই মোড়ে আমরা কথা বলছিলাম অন্যান্য দেশের সাথে বাংলাদেশের টাকার মানের পার্থক্য নিয়ে।পাশে এক রিকশাওয়ালা তার রিকশায় বসে ছিলো।আমাদের কথাগুলো সে শুনছিলো।এক পর্যায়ে বিনয়ের সাথে জিজ্ঞাসা করলো আমাদের সাথে কিছু কথা বলতে পারবে কিনা?আমরা সায় দিলাম।সে বলল আমরা যে টাকা নিয়ে কথা বলছি সেটা বাস্তবতায় উপস্থিত আছে তো?আমরা হ্যাঁ বললাম।তখন সে বলল যা আমাদের চোখের সামনে রয়েছে সেটা নিয়ে আমরা মাতামাতি করছি।যা আমরা দেখছি না,যা আমাদের নেই, সেটা নিয়ে আমরা কি করছি?উনি পরকালের বিষয়টা তুলে ধরেছিলেন।তখন উনি বললেন আমি একজন মুসলমান তাই মুসলিম হিসেবে আমি আমার কর্তব্য পালন করছি,দ্বীনের দাওয়াত দিচ্ছি।আমরা যে টাকা নিয়ে কথা বলছিলাম সেটার সাথে ইসলামকে নিয়েও কথা বলার উপদেশ দিলেন তিনি।নামাজ পড়ার এবং পরকালের জন্য সুন্দর একটা জীবন গড়ার উপদেশও দিলেন।

এই কথা গুলো শোনার পর স্বাভাবিক ভাবেই আমরা অনুতপ্ত হলাম।শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা যা করি না,উনিই সেটা করলেন।প্রকৃত ধার্মিক হিসেবে তার কর্তব্য পালন করলেন।সাধারণত আমরা তাদের মতো দিনমজুরদের ভালো চোখে দেখি না।মনে করি তাদের মধ্যে নৈতিকতা নেই।তারা যে কোন অনৈতিক কাজ করতে পারে।কিন্তু সেই রিক্সাওয়ালার কথা ভাবলে অবাক হই,ধর্মের মাঝে এত ক্ষমতা আছে,যে কেউ যদি সেটাকে মনে প্রানে গ্রহণ করে  নেয় তাহলে তার সম্পূর্ণ মানসিকতা পরিবর্তন হয়ে যায়।সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস,ভালোবাসা তাকে নৈতিক কাজ করতে উৎসাহ দেয়।

সাম্প্রতিক সময়ে যে পরিমানে অনৈতিক ঘটনা ঘটছে,নির্যাতন,সন্ত্রাস,জঙ্গি কার্যকলাপ হচ্ছে সেটার একমাত্র সমাধান ধর্মীয় চেতনা।শুধু মাত্র এটাই মানবতা তৈরি করতে সক্ষম।জঙ্গিদের মতো বিপথগামী মানুষ ধর্মে বিশ্বাসী না।তারা ধর্মের নামে সন্ত্রাসমূলক কাজ করছে।আমি শুধু ইসলামের কথা বলছি না।বলছি সকল ধর্মের কথা।কোনো ধর্মই মানুষকে মারতে শেখায় না।মানবতা শেখায়,ভ্রাত্বিত্ববোধ শেখায়।সবাই যদি ধর্মীয় চেতনাকে ছড়িয়ে দিতে পারি,তাহলেই দুর্নীতি,রাহাজানি বন্ধ করা সম্ভব।

ফাহিম মোন্তাসির
fahimscirex@gmail.com
A.C.P.S

Comments

Popular posts from this blog

সৌরজগতের তথ্যাবলীর চার্ট

নবম শ্রেণীর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচিতি বইয়ের তৃতীয় অধ্যায় এর সৌরজগৎ এর সাধারণ বিষয়াবলী এক নজরে দেখার সুবিধার্তে একটি চার্ট করেছি।আশা করি সকলের কাজে লাগবে।কিছু তথ্য বইয়ে নেই আমি নিজে হিসেব করে বের করেছি।কিছু উইকিপিডিয়া থেকে সংগ্রহীত।তথ্যের সূত্রের ভিন্নতার ভিত্তিতে হয়ত কিছু তথ্য এদিক সেদিক হতে পারে।তবে বইয়ে যা দেওয়া আছে তাই তুলে দিয়েছি।কোনো ভুল থাকলে অবশ্যই যোগযোগ করবেন। PDF লিংকের জন্য  এখানে ক্লিক করুন ফাহিম মোন্তাসির fahimscirex@gmail.com A.C.P.S

মে দিবসের কথা

মে দিবসের কথা উঠলেই আমার কাছে একটা দৃশ্যই ভেসে উঠে।কিছু শোষক শ্রেণীর মানুষ আর অগণিত শ্রমিক,যারা অত্যাচারিত হচ্ছে শোষকের হাতে।কিন্তু বর্তমানের এই মে দিবসের চেহারা হবার কথা ছিলো ভিন্ন।এটা তো ১৯৮৬ সালের আগের দৃশ্যপট হওয়ার কথা ছিলো না।কিন্তু বাস্তবতা হলো এখনো শ্রমিক শোষণ হচ্ছে এবং স্টে উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত দেশগুলোতে প্রকট। শ্রমিক শোষণ ছিল বহু আগে থেকেই কিন্তু এই শোষণের বিরুদ্ধে বড় আকারের আন্দোলন হয় সেই সময় তা হলো ১৯৮৬ সাল,যুক্তরাষ্টের শিকাগোয় শ্রমিকদের আন্দোলনের মূল কারণ ছিল তাদের প্রতি অবিচার।দৈনিক ১২-১৩ ঘন্টা কাজ করার পর ও তাদের মজুরি দেওয়া হতো নগন্য।এই অবিচারের কারণটা ছিল মালিকদের প্রতিযোগিতা। শিল্প বিপ্লবের সময় হওয়ায় তখন বেশ কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল সারা পৃথিবী জুড়ে।এক প্রতিষ্ঠানের সাথে অন্য প্রতিষ্ঠানের মালিকদের ক্ষমতার লড়াইয়ে প্রভাব পড়তো শ্রমিকদের উপর।অধিক মুনাফা লাভের জন্য তাদের খাটানো হতো বেশি কিন্তু মজুরি দেওয়া হতো কম। এই সব অবিচারের অবসান ঘটানোর জন্য ১৯৮৬ সালের ১ মে শিকাগো শহরে অগাস্ট স্পিজ নামক ব্যাক্তি আন্দোলনের উদ্দেশ্যে আগমনকৃত ৩ লাখ শ্রমিকদের নিয়ে তাদের অধিকা...

নিউট্রনের চার্জ নিরপেক্ষ হওয়ার কারণ

প্রোটন,নিউট্রন,ইলেক্ট্রন সম্পর্কে আমরা প্রায় সবাই জানি।প্রাথমিকভাবে পরমাণু সমন্ধে আমরা যে ধারণা পাই,সেটা হলো প্রকৃতির সব কিছুই পরমাণুর এই তিনটি কণা দিয়েই গঠিত। আর্নেস্ট রাদারফোর্ড প্রোটন আবিষ্কার করেছিলেন।নিউট্রন আবিষ্কৃত হয় চ্যাডউইক এর মাধ্যমে এবং ইলেক্ট্রন আবিষ্কার করেন জে.জে থমসন।প্রোটনের প্রকৃত আধান 1.60×10-19 কুলম্ব,যাকে আপেক্ষিকভাবে +1 ধরা হয়।ইলেক্ট্রনের প্রকৃত আধান প্রোটনের বিপরীত অর্থাৎ   -1.60×10-19 যাকে আপেক্ষিকভাবে -1 ধরা হয়। কিন্তু নিউট্রনের কোনো আধান নেই কেন?এই প্রশ্নের সহজ একটি উত্তর রয়েছে,যা জানতে হলে কোয়ার্কের কথা বলতে হবে। নিউট্রন ও প্রোটন পরমাণুর কেন্দ্রে থাকে এবং এরা কোয়ার্ক দিয়ে তৈরি।মোট ছয় রকম কোয়ার্ক রয়েছে প্রকৃতিতে।এদের মধ্যে দুটি হলো আপ ও ডাউন কোয়ার্ক।কোয়ার্কেরও চার্জ রয়েছে তবে সেটা পূর্ণ সংখ্যা নয়।আপ কোয়ার্কের চার্জ +2/3 এবং ডাউন কোয়ার্কের চার্জ -1/3। প্রোটন তৈরি দুটি আপ কোয়ার্ক আর একটি ডাউন কোয়ার্ক মিলে।আর নিউট্রন তৈরি দুটি ডাউন কোয়ার্ক এবং একটি আপ কোয়ার্ক নিয়ে। যদি নিউট্রনের কোয়ার্কগুলোর চার্জ যোগ করা হয় তাহলে ফল হবে, -1/3-1/3+2/3=0 অর্থাৎ চার্জ ...